Home > Articles > পিসিওএস (PCOS) এবং বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা: ওষুধেই সম্ভব গর্ভধারণ পরামর্শে এবং লেখায়: ডাঃ দেবলীনা ব্রহ্ম (প্রখ্যাত, অ্যাওয়ার্ড-উইনিং আই ভি এফ ও স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্পর্শ আই ভি এফ সেন্টারের কর্ণধার)Synopsis
সন্তান ধারণে বিলম্ব হলে বা ইনফার্টিলিটির (Infertility) সমস্যা দেখা দিলে বেশিরভাগ দম্পতির মনে একটাই প্রশ্ন জাগে—"আমাদের কি এবার আই ভি এফ (IVF) বা টেস্ট টিউব বেবির সাহায্য নিতে হবে?"
এই অহেতুক ভয়ে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা মানেই সবসময় টেস্ট টিউব বেবি নয়। রোগীর সমস্যার মূল কারণ ঠিকমতো নির্ণয় করতে পারলে, অনেক ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ফার্টিলিটি ওষুধ এবং হরমোন ইঞ্জেকশনের মাধ্যমেই প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণ (Pregnancy) সম্ভব।
আজকালকার দিনে ইনফার্টিলিটির অন্যতম প্রধান কারণ হলো পিসিওএস (PCOS) এবং ওভ্যুলেশনের সমস্যা। আসুন জেনে নিই, এই ধরনের সমস্যায় আই ভি এফ ছাড়াই প্রথম সারির চিকিৎসাগুলি কী কী এবং কীভাবে তা কাজ করে।
বর্তমান সময়ে মহিলাদের মধ্যে সবচাইতে পরিচিত সমস্যা হলো পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS)।
যাঁদের পিসিওএস আছে, তাঁদের শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতি বা রেসিস্ট্যান্স দেখা যায়, যার ফলে ডিম্বাশয় থেকে সময়মতো ডিম্বাণু (Egg) তৈরিতে বাধা আসে। এই ক্ষেত্রে মেটফরমিন (Metformin) নামক ওষুধটি দারুণ কার্যকরী। এটি সরাসরি ফার্টিলিটির ওষুধ না হলেও, শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য ফিরিয়ে এনে স্বাভাবিক ওভ্যুলেশনে সাহায্য করে। বিশেষত যাঁদের ওজন বেশি (Obesity), তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে মেটফরমিন ব্যবহার করলে খুব দ্রুত ফল পাওয়া যায়।
পিসিওএস ছাড়াও অনেকের ডিম্বাশয় থেকে সময়মতো ডিম্বাণু নির্গত হয় না। একে ওভ্যুলেশন ডিসঅর্ডার বলা হয়। এই সমস্যা সমাধানে চিকিৎসকরা ওভারিকে উদ্দীপ্ত করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে থাকেন:
মুখে খাওয়ার ওষুধে (যেমন লেট্রোজোল বা ক্লোমিফেন) আশানুরূপ ফল না মিললে, চিকিৎসকরা পরবর্তী ধাপ হিসেবে হরমোন ইঞ্জেকশনের সাহায্য নেন।
মহিলাদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে যে ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) এবং লিউটিনাইজিং হরমোন (LH) থাকে, তার ঘাটতি মেটাতে গোনাডোট্রফিন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। এটি সরাসরি ওভারিতে কাজ করে উন্নত মানের ডিম্বাণু তৈরি করে। তবে, ডিম্বাশয় যাতে অতিরিক্ত মাত্রায় উদ্দীপ্ত (OHSS) না হয়ে পড়ে বা মাল্টিপল প্রেগন্যান্সির (যমজ সন্তান) ঝুঁকি না বাড়ে, তার জন্য এই চিকিৎসায় নিয়মিত আল্ট্রাসাউন্ড করা বাধ্যতামূলক।
অনেকের ব্রেনের পিটুইটারি গ্ল্যান্ডে সমস্যার কারণে রক্তে প্রোল্যাক্টিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলেও ইনফার্টিলিটি দেখা দেয়। এই নির্দিষ্ট সমস্যার মোকাবিলায় ব্রোমোক্রিপটিন (Bromocriptine) বা ক্যাবেরগোলিন (Cabergoline)-এর মতো ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। এই ওষুধগুলি প্রোল্যাক্টিনের মাত্রা কমিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক ফার্টিলিটি ফিরিয়ে আনে।
ওষুধ, লাইফস্টাইল পরিবর্তন, এবং ইঞ্জেকশনেও যদি সুফল না মেলে, কিংবা যদি ফ্যালোপিয়ান টিউব ব্লক থাকে—কেবলমাত্র তখনই আই ভি এফ (IVF) বা অন্য কোনো উন্নত পদ্ধতির কথা ভাবা হয়।
তাই বন্ধ্যাত্ব নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে, দ্রুত একজন অভিজ্ঞ সুপ্রজনন বিশেষজ্ঞের (Fertility Specialist) পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধেই আপনার কোল আলো করে আসতে পারে নতুন অতিথি।
ডাঃ দেবলীনা ব্রহ্ম
বিশিষ্ট সুপ্রজনন বিশেষজ্ঞ (Infertility Specialist)
ডাঃ দেবলীনা ব্রহ্ম আই ভি এফ (IVF) এবং ইনফার্টিলিটি চিকিৎসায় একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি বহু দম্পতিকে সন্তান লাভের স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছেন। বর্তমানে তিনি স্পর্শ ইনফার্টিলিটি সেন্টারের সাথে যুক্ত থেকে উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করছেন।
Sparsha Infertility Centre (স্পর্শ ইনফার্টিলিটি সেন্টার)
📍 ঠিকানা: মধ্যমগ্রাম চৌমাথা & তেঘোরিয়া লোকনাথ মন্দির (ক্লিক করে ম্যাপে দেখুন)
📧 ইমেল: info@sparshaivf.com
📞 হেল্পলাইন: 9830305076 / 9804888808