Facebook
 

বারবার মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত কেন হয়? জেনে নিন কারণ এবং সফল মাতৃত্বের আধুনিক চিকিৎসা

 

বারবার মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত কেন হয়? জেনে নিন কারণ এবং সফল মাতৃত্বের আধুনিক চিকিৎসা

 

Home > Articles > বারবার মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত কেন হয়? জেনে নিন কারণ এবং সফল মাতৃত্বের আধুনিক চিকিৎসা

 

Synopsis

পরামর্শে এবং লেখায়: ডাঃ দেবলীনা ব্রহ্ম (প্রখ্যাত, অ্যাওয়ার্ড-উইনিং আই ভি এফ ও স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্পর্শ আই ভি এফ সেন্টারের কর্ণধার)

 

অনেক সাধ আর প্রচুর স্বপ্ন নিয়ে যে সন্তান পৃথিবীতে আনার পরিকল্পনা করেন দম্পতিরা, তা মাঝপথে ভেঙে যাওয়ার মতো মর্মান্তিক আর কিছু হয় না। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় দেখেছি, একাধিক মিসক্যারেজ বা গর্ভপাতের শিকার হওয়া নারীরা প্রায়শই বিভ্রান্ত, দিশেহারা এবং হতাশ হয়ে পড়েন।

তবে একজন ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, হতাশা বা কান্না কোনো সমাধান নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রযুক্তি আজ অনেক দূর পৌঁছেছে। রেকারেন্ট মিসক্যারেজ (Recurrent Miscarriage) বা বারবার গর্ভপাত কেন হয় এবং আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে কীভাবে এর চরম হতাশা কাটিয়ে সফল মাতৃত্ব লাভ করা সম্ভব, আসুন তা জেনে নিই।

বারবার মিসক্যারেজ হওয়া কি স্বাভাবিক?

পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ২০ শতাংশ নারী তাঁর প্রজননক্ষম বয়সে এক বা একাধিকবার গর্ভপাতের সম্মুখীন হতে পারেন। মূলত গর্ভসঞ্চারের প্রথম ১২ সপ্তাহ বা ফার্স্ট ট্রাইমেস্টারে (1st Trimester) মিসক্যারেজ বেশি হয়।

পরপর দু'বার বা তিনবার মিসক্যারেজ হলে অবশ্যই সাবধান হতে হবে, কারণ এর পেছনে কোনো জটিল শারীরিক কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে।

  • লক্ষণ: গর্ভসঞ্চারের প্রথম দিকে যদি অল্প রক্তপাত (Spotting) শুরু হয়ে পরে খুব বেশি মাত্রায় ব্লিডিং হয় এবং রক্তের ক্লট (Clot) বেরোতে থাকে, সঙ্গে পেটে ব্যথা থাকে—তবে বুঝতে হবে বিপদ সামনে।

  • মিসড অ্যাবরশন (Missed Abortion): আবার অনেক সময় হঠাৎ কোনো রকম ব্যথা বা রক্তপাত ছাড়াই মিসক্যারেজ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ভ্রূণ জরায়ুর মধ্যেই মারা যায়, একে 'মিসড্ অ্যাবরশন' বলে। তাই গর্ভাবস্থায় কোনো অস্বাভাবিক ব্যথা বা ডিসচার্জ হলেই দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

রেকারেন্ট মিসক্যারেজ বা বারবার গর্ভপাত কেন হয়?

অনেকেরই ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে গর্ভাবস্থায় দূর-ভ্রমণ, মানসিক উদ্বেগ, বা স্ট্রেস থেকেই মিসক্যারেজ হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। রেকারেন্ট প্রেগন্যান্সি লস (RPL)-এর আসল কারণগুলি হলো:

১. মায়ের বয়স ও হরমোনের সমস্যা: গর্ভবতী মায়ের বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে। ওভারি ঠিকমতো 'কর্পাস ল্যুটিয়াম' তৈরি না করতে পারলে প্রোজেস্টেরন হরমোনের অভাবে মিসক্যারেজ হতে পারে। এছাড়া প্রোল্যাক্টিন এবং এল.এইচ (LH) হরমোনের অসামঞ্জস্য থাকলেও এই সমস্যা হয়।

২. অন্যান্য শারীরিক জটিলতা: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস (Diabetes), উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, এবং অ্যান্টিফসফোলিপিড অ্যান্টিবডি সিনড্রোম (APLA)-এর মতো ইমিউনোলজিক্যাল বা ব্লাড ক্লটিং ডিজিজ থেকে বারবার মিসক্যারেজ হতে পারে।

৩. সংক্রমণ বা ইনফেকশন: রুবেলা, টক্সোপ্লাজমোসিস, সাইটোমেগালো ভাইরাস (CMV) বা লিস্টেরিয়ার মতো ভাইরাল সংক্রমণের কারণেও মিসক্যারেজ হতে পারে।

ভ্রূণ বা জরায়ুর গঠনগত ত্রুটির জন্য মিসক্যারেজ

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বারবার গর্ভপাতের প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ হলো ভ্রূণের গঠনগত ত্রুটি বা জরায়ুর সমস্যা:

  • ক্রোমোজোমের ত্রুটি (Chromosomal Defects): প্রেগন্যান্সির প্রথম পর্বে হওয়া সিংহভাগ মিসক্যারেজের কারণ হলো ক্রোমোজোমের ত্রুটি। এর জন্যই ভ্রূণ ঠিকমতো বাড়তে পারে না। ভ্রূণের কোষে একটি ক্রোমোজোমের দু'টি কপির বদলে তিনটি থাকলে (যাকে ট্রাইসমি বা Trisomy বলে), একাধিকবার মিসক্যারেজ নিশ্চিত।

  • জরায়ুর সমস্যা (Uterine Defects): জরায়ুতে জন্মগত কোনো পর্দা (Septum) বা ফাইব্রয়েড (Fibroid) থাকলে ভ্রূণের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া সার্ভিক্স বা জরায়ুমুখ যদি ঢিলে থাকে (Cervical Incompetence), তবে গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় পর্বে (Second Trimester) মর্মান্তিক মিসক্যারেজ ঘটতে পারে।

একাধিক মিসক্যারেজের পরেও কি সফল মাতৃত্ব লাভ সম্ভব?

অবশ্যই সম্ভব! আধুনিক সুপ্রজনন বিদ্যার (Reproductive Medicine) অগ্রগতির ফলে এখন আর ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে হয় না।

আজ বিশ্বমানের আই ভি এফ (IVF) প্রযুক্তির মাধ্যমে গর্ভস্থ ভ্রূণের ক্রোমোজোম বিশ্লেষণ করে তাকে ত্রুটিমুক্ত করা যায় (যাকে PGT-A বা Preimplantation Genetic Testing বলা হয়)। এর ফলে শুধুমাত্র সম্পূর্ণ সুস্থ ভ্রূণটিকেই মায়ের জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়, যা মিসক্যারেজের ঝুঁকি প্রায় শূন্য করে দেয়। এছাড়া জরায়ুর গঠনগত ত্রুটি থাকলে তা ল্যাপারোস্কোপিক বা হিস্টেরোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে সহজেই সংশোধন করা যায়।

প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং একজন অভিজ্ঞ ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের হাত ধরা।

প্রখ্যাত লেখক পরিচিতি (Author Bio)

ডাঃ দেবলীনা ব্রহ্ম

ফাউন্ডার, স্পর্শ আই ভি এফ সেন্টার | অ্যাওয়ার্ড-উইনিং আই ভি এফ (IVF) ও স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞ

ডাঃ দেবলীনা ব্রহ্ম ভারতের একজন স্বনামধন্য এবং পুরস্কৃত ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ। উন্নতমানের আই ভি এফ (IVF) চিকিৎসা এবং বিশ্বমানের প্রযুক্তির সমন্বয়ে তিনি স্পর্শ আই ভি এফ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর নিবিড় যত্ন, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং আধুনিক চিকিৎসায় বারবার গর্ভপাতে হতাশ হওয়া হাজারো দম্পতি আজ সফলভাবে সন্তান লাভের আনন্দ উপভোগ করছেন।


যোগাযোগ করুন (Contact Us)

Sparsha IVF Centre (স্পর্শ আই ভি এফ সেন্টার)

📍 ঠিকানা: মধ্যমগ্রাম চৌমাথা & তেঘোরিয়া লোকনাথ মন্দির (ক্লিক করে ম্যাপে দেখুন)

📧 ইমেল: info@sparshaivf.com

📞 হেল্পলাইন: 9830305076 / 9804888808

 

 

 

Book an Appointment

Fill in the details below to enable us contact you instantly

 

 Talk to Expert
Close